শুদ্ধ করিয়া লেখা পান্ডিত্যের পরিচায়ক নহে, বরং শিক্ষার পরিচায়ক…

By Dr. Abdul Alim on February, 18 2018 with no comments

‘শুদ্ধ করিয়া লেখা পান্ডিত্যের পরিচায়ক নহে, বরং শিক্ষার পরিচায়ক।’ – এ উক্তি ড. মুহম্মদ এনামুল হকের। তিনি আরও বলেছেন : ‘ইহা শালীনতা বা ভব্যতারও পরিচয় দিয়া থাকে। শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের মধ্যে যে প্রভেদ, নির্ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ লেখায়ও সেই একই প্রভেদ বর্তমান। এই জন্যই শিক্ষিত ব্যক্তিকে এই বিষয়ে অবহিত হইতে হয়। বানান সম্পর্কে উদাসীন না হইয়া একটু সাবধান হইলেই এ দোষ সারিয়া যায়।’ (এনামুল, ২০০৯ : ১৯৩) কারণ লেখার মাধ্যমে শিক্ষিত ব্যক্তির শিক্ষার গভীরতা কতটুকু তা আন্দাজ করা যায়। লেখা তো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রতিনিধিত্ব করে। সেজন্য লেখার সময় চিন্তাভাবনা করে লিখতে হয়। যতটা পারা যায়, শুদ্ধ করে লিখতে হয়। লেখা শুদ্ধ করার জন্য চাই নিয়মিত অনুশীলন, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছা।
বানান শুদ্ধ করে লেখার জন্য প্রয়োজন ব্যাকরণের জ্ঞান। ব্যাকরণের জ্ঞান ছাড়া শুদ্ধ বাংলা বলা বা লেখা শূন্যে সৌধ নির্মাণের মতোই অসম্ভব ব্যাপার। তাছাড়া বানান তো কেবল লিপিঘটিত একটি ব্যাপার নয় ; বানানের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে আছে একটি জনগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতির জিন (মবহব), ধ্বনিমূল-সম্পৃক্ত অর্থদ্যোতনা, উচ্চারণের লিপ্যন্তর, ধ্বনিপ্রতীক অক্ষরের (অর্থাৎ বর্ণের) দৃষ্টিগ্রাহ্য রূপ ইত্যাদি বহু জটিল ঘটনা। (হায়াৎ, ২০০৯ : ১০) এ কারণে শুদ্ধ বানান আয়ত্ত করার জন্য ব্যাপক অনুশীলন-অধ্যয়ন প্রয়োজন। এ ছাড়াও প্রয়োজন :

গভীর মনোযোগ
শুদ্ধ করে লেখার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে বানান সম্পর্কে মনোযোগী হওয়া। দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বানানভুলের কারণ অজ্ঞতা নয় ; অসাবধানতা ও অমনোযোগ। (মাহবুবুল, ২০০৮ : ১৯) কোনো কিছু লেখার আগে সাবধান হতে হয়। লেখার পর মনোযোগ দিয়ে বারবার পড়তে হয়। পড়ে পড়ে সংশোধন করতে হয়। পরীক্ষার উত্তরপত্র, আবেদনপত্র এবং যে-কোনো বিষয় নির্ভুল করার জন্য লেখার পর অবশ্যই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে হয়।

উচ্চারণ অনুযায়ী লেখার অভ্যাস পরিহার
অনেকে মুখে যেভাবে উচ্চারণ করেন লেখায় তার প্রকাশ ঘটান। কিন্তুু এ-কথা মনে রাখতে হবে যে, পৃথিবীতে এমন কোনো ভাষা নেই যা উচ্চারণ অনুযায়ী হুবহু লেখা যায়। (হায়াৎ, ২০০৮ : ৫) এক্ষেত্রে যে ভুলগুলো হয়, তা হল এরকম―জোতি (জ্যোতি), সান্ত¡না (সান্ত¡না),গ্যালো (গেল), য্যানো (যেন), বোললো (বলল) ইত্যাদি। বানান নির্ভুল করার জন্য এই উচ্চারণানুযায়ী লেখার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

অভিধানের শরণাপন্ন হওয়া
বানান শুদ্ধ লেখার অন্যতম প্রধান উপায় অভিধানের শরণাপন্ন হওয়া। প্রতিদিন যদি অভিধান থেকে পাঁচটি করে শব্দ শেখা যায়, তবে বছরে ১৮০০ শব্দ সম্পর্কে ধারণা হয়। এতে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। তাছাড়া কোনো বানান সম্পর্কে সংশয় দেখা দিলে সাথে সাথে অভিধান খুলে দেখতে হয়, এতে ঐ বানান আর ভুল হয় না।

শব্দের গঠন ও অর্থ মনে রাখা
কতকগুলো শব্দের গঠন এবং অর্থের মধ্যে তার শুদ্ধতা নিহিত থাকে। যেমন― উজ্জ্বলের মধ্যে রয়েছে জ্বলে ওঠার ব্যাপার। সেজন্য বর্গীয় জ-এর সঙ্গে ব-ফলা হবে। বানান শুদ্ধ লেখার জন্য সংশ্লিষ্ট শব্দটির গঠন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি, গীতাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি―এসব শব্দের গঠনরূপ : শ্রদ্ধা + অঞ্জলি, গীত + অঞ্জলি। কেবল ‘অঞ্জলি’ শব্দটির গঠন মনে রাখলেই বানানগুলো শুদ্ধ করে লেখা যায়।

শব্দের ধ্যান করা
বানান নির্ভুল করার জন্য শয়নে-স্বপনে-জাগরণে শব্দের ধ্যান করা দরকার। জটিল শব্দগুলো চিরকূটে লিখে পকেটে রেখে সুযোগ পেলেই দেখতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামফলক, সাইনবোর্ড, দেয়াল লিখন, বিজ্ঞাপন প্রভৃতির বানান চোখে পড়ার সাথে সাথে নিজের শেখা বানানটির সাথে মিলিয়ে নিতে হয়।

বানানের নিয়ম আয়ত্ত করা
মুখস্থ করে বানান আয়ত্ত করা কঠিন ব্যাপার। এজন্য বানানের কিছু নিয়ম জানা থাকলে বানান নির্ভুল লিখতে সুবিধা হয়। যেমন―(ক) অতৎসম শব্দের বানানে কোনো সময় মূর্ধন্য-ষ হয় না। (খ) বিদেশি শব্দের বানানে ই-কার হয়, ঈ-কার হয় না। (গ) দেশ, ভাষা, জাতি বোঝাতে ই-কার হয়। (ঘ) ইক, আলি প্রভৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হয়। এছাড়া কতকগুলো কৌশল জানা থাকলে অসংখ্য বানান শুদ্ধ করে লেখা যায়। যেমন―(ক) অদ্ভুত এবং ভুতুড়ে ব্যতীত সকল শব্দের ভূত বানান ঊ-কার হয়। যেমন―অভিভূত, দ্রবীভূত, ভূতপূর্ব প্রভৃতি। (খ) দূরত্ব বুঝাতে ‘দূ’ দীর্ঘ ঊ-কার দিয়ে লিখতে হয়, যেমন―দূরবীণ, দূরপাল্লা; অন্য সবক্ষেত্রে ‘দু’ হ্রস্ব উ-কার হয়, যথা―দুর্নাম, দুর্নীতি, দুর্গতি, দুঃসহ। তবে ‘দূত’ শব্দে দ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কার হয়।
বানান শেখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন। একইসাথে শব্দগঠনের নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা থাকতে হয়। সন্ধি, সমাস, প্রকৃতি-প্রত্যয়, উপসর্গ, দ্বিরুক্তি ইত্যাদিসহ ব্যাকরণের নানা বিষয় সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা থাকলে বানান নির্ভুলভাবে লেখা যায়। ‘সত্যি কথা বলতে কী, বানান শেখার শটকার্ট রাস্তা খুব একটা নেই। একটু পরিশ্রম, একটু ধৈর্য, একটু মনোযোগ এসবই চাই।’ (সুভাষ, ২০০৩ : ৭৮) কয়েকটি শব্দের শুদ্ধরূপ :

অপরাহ্ণ/পরাহ্ণ/পূর্বাহ্ণ/প্রাহ্ণ/মধ্যাহ্ন/সায়াহ্ন
অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ, প্রাহ্ণ―এ শব্দগুলোতে হ-এর নিচে মূর্ধন্য-ণ বসে। অন্যদিকে মধ্যাহ্ন, সায়াহ্ন প্রভৃতি শব্দে যুক্ত হয় দন্ত্য-ন ; এই দন্ত্য-ন বসে হ-এর পাশে।

আকাক্সক্ষা
‘ক্ষ’ এর পরিবর্তে ‘খ’ লেখার প্রবণতা অনেকের মধ্যে লক্ষ করা যায়। এতে হাস্যকর বানান সৃষ্টি হয়। আকাক্সক্ষা লিখতে সবসময় ‘ক্ষ’ ব্যবহার করতে হবে। আকাক্সক্ষা যদি বিশুদ্ধ না হয়, ঈপ্সিত ফল পাওয়া যাবে না। (মনীন্দ্রকুমার, ১৩৮৫ : ১২৭)

কালী/কালিদাস
জুতার কালি, দোয়াতের কালি এবং দাসযুক্ত শব্দের ‘কালি’তে ল-য়ে ই-কার হয়, অন্যসব ‘কালী’ ল-য়ে দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে লিখতে হয়। যেমন―জয়কালী, কালীমন্দির, কালীমূর্তি, কালীঘাট ; কিন্তু কবি কালিদাস, কালিদাস রায়, কালিদাস ভট্টাচার্য।

কি/কী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন : “অব্যয় শব্দ ‘কি’ এবং সর্বনাম শব্দ ‘কী’ এই দুইটি শব্দের সার্থকতা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তাদের ভিন্ন বানান না থাকলে অনেক স্থলেই অর্থ বুঝতে বাধা ঘটে।” (রবীন্দ্রনাথ, ২০০৬ : ৩৪) অর্থাৎ শব্দটি অব্যয়রূপে প্রযুক্ত হলে বানান হবে ‘কি’, সর্বনাম বা সর্বনামজাত বিশেষণরূপে প্রযুক্ত হলে হবে ‘কী’। (মনীন্দ্রকুমার, ১৩৮৫ : ৭৫) যেমন―তুমি কি রাঁধছ? তুমি কী রাঁধছ? এছাড়া ‘যে প্রশ্নের উত্তর হয় ‘হ্যাঁ’ হবে, না হয় ‘না’ হবে (ণবং-ঘড় য়ঁবংঃরড়হ) সে-ক্ষেত্রেই শুধু ই-কারযুক্ত কি ব্যবহৃত হবে। (পবিত্র, ২০০৪ : ১৭৯) যেমন―তুমি কি দেখেছ বইটা?

টি/টা/খানা/খানি/গুলি/গুলো/রা/এরা/গণ/বৃন্দ/সমূহ
টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ―এইগুলো সবসময় এসাথে বসবে, কখনো আলাদা বসবে না। যেমন―কলমটি, বইখানা, খাতাগুলি, ছাত্রবৃন্দ, গ্রন্থসমূহ ইত্যাদি। তবে সমূহ যখন শব্দের পূর্বে বসে তখন তা আলাদাভাবে বসে। যথা―সমূহ সম্ভাবনা, সমূহ বিপদ প্রভৃতি।

নয় তো/নয়তো
‘নয় তো’ মানে ‘নয়’। যেমন―ভাত নয়, তো রুটি খাবে। আর ‘নয়তো’ মানে ‘বিকল্প’। যেমন―ইচ্ছা হলে যাও, নয়তো যেও না।

না/নি/নেই/নয়
এই নেতিবাচক শব্দগুলো সবসময় আলাদাভাবে বসে। যেমন―করি না, যাই না, যাই নি, করে নি যেও না, শোনে না ইত্যাদি। এগুলো কখনো শব্দের সঙ্গে একসাথে বসবে না। তবে শব্দের পূর্বে একসাথে বসতে পারে। যথা―নাহক কথা, নারাজ, নাজায়েজ ইত্যাদি। অনেক সময় অর্থ পরিষ্কার করার জন্য শব্দের পূর্বে না-এর পরে হাইফেন বসে। যেমন―না-জানা কথা, না-বলা কথা ইত্যাদি।

পৌরোহিত্য/ভৌগোলিক
পৌরোহিত্য শব্দটি এসেছে ‘পুরোহিত’ (পুরস্+হিত) থেকে। তাই পৌরোহিত্যে ও-কার থাকবে। ভৌগোলিক-এর সাথে রয়েছে ভূগোলের গোলের সম্পর্ক। “ভূগোলের কোন কোন শিক্ষক ও গ্রন্থকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার ‘ভৌগোলিক’ শব্দের ‘গো’ থেকে ও-কার হরণ করলে ভূ আর গোল থাকে না। ও-কার বঞ্চিত হয়ে ‘ভৌগোলিক’ শব্দ ‘ভৌগলিক’ রূপে ছাত্রছাত্রীদের খাতায় স্থান পেলে পরীক্ষকেরা গোল গোল নম্বর দিয়ে ও-কারের অভাব মিটিয়ে নেবেন।” (মনীন্দ্রকুমার, ১৩৮৫ : ১২৫)

বৎ (বান)/মৎ (মান)
শব্দের শেষে অ বা আ স্বর থাকলে সাধারণত বৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন―গুণবান, দয়াবান, ধনবান, জ্ঞানবান, পুণ্যবান, বলবান, বেগবান, ভগবান, মূল্যবান, যতœবান ইত্যাদি। আর শব্দের শেষে অ বা আ ছাড়া অন্য স্বর থাকলে মৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যথা―রুচিমান, চক্ষুষ্মান, দীপ্তিমান, মূর্তিমান, শক্তিমান, শ্রীমান, হনুমান ইত্যাদি। তবে ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত শানচ্ প্রত্যয়ের মান কিন্তু আলাদা। শানচ্ প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দগুলো হল―ঘটমান, ঘনায়মান, দ-ায়মান, দীপ্যমান, দৃশ্যমান, বর্তমান, বহমান, ম্রিয়মাণ প্রভৃতি।

বিদুষী/দুর্গা
বিদ্বান’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ ‘বিদুষী’। ‘বিদুষী’ লিখতে দ-য়ে উ-কার দিতে হয়, দ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কার দিলে মারাত্মক ভুল হয়। ‘দুর্গা’ শব্দেও দ-এ হ্রস্ব-উকার। ‘দুর্গা’র দ-এ দীর্ঘ-ঊকার দিলে ‘দুর্গতি’ অনিবার্য। (মনীন্দ্রকুমার, ১৩৮৫ : ১২৮)

সহযোগী/সহযোগিতা
সহযোগী সংস্কৃত ইন্-ভাগান্ত শব্দ। এ জাতীয় শব্দ দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে লিখতে হয়। এদের সাথে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে দীর্ঘ ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব ই-কার বসে। যেমন―প্রতিযোগী, প্রতিযোগিতা ; প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ; বিলাসী, বিলাসিতা।

সুধী/সুধীবর্গ
‘সুধী’ শব্দে সবসময় ধ-য়ে ঈ-কার হয়। সুধীবর্গ, সুধীগণ ইত্যাদি বানানেও ঈ-কার দিয়ে ‘ধী’ লিখতে হবে। অর্থাৎ ‘সুধী’ বানানে কখনো ই-কার বসে না।

ক্ষালন/স্খলন
‘ক্ষালন’ শব্দের অর্থ মোচন ‘মোচন, ধোওয়া’; ‘স্খলন’ শব্দের অর্থ ‘পতন, পিছলানো’। লিখতে হবে ‘দোষক্ষালন’, ‘পদস্খলন’; কখনোই ‘দোষস্খালন’ নয়।

স্ত/স্থ
যে-সব শব্দের শেষে স্থ থাকে সেগুলো থেকে স্থ বাদ দিলেও ঐ শব্দগুলোর অর্থ বিদ্যমান থাকে। যেমন―কণ্ঠস্থ, গৃহস্থ, সুস্থ, তটস্থ, মুখস্থ, মধ্যস্থ, স্বাস্থ্য প্রভৃতি শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলে থাকে কণ্ঠ, গৃহ, সু, তট, মধ্য, মুখ ও স্বা। অন্যদিকে যে-সব শব্দের শেষে স্ত বসে সেগুলো থেকে স্ত বাদ দিলে শব্দের কোনো অর্থ থাকে না। যেমন―আশ্বস্ত, গ্রস্ত, বিন্যস্ত, অভ্যস্ত, ত্রস্ত, পরাস্ত, ব্যতিব্যস্ত, ব্যস্ত, সন্ত্রস্ত, সমস্ত, অভাবগ্রস্ত, ঋণগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত, রোগগ্রস্ত,শোকগ্রস্ত প্রভৃতি শব্দের শেষের স্ত বাদ দিলে কোনো অর্থ পাওয়া যায় না। যথা―আশ্ব, গ্র, বিন্য, অভ্য, আশ্ব, ত্র, পরা, ব্যতি, ব্য, সন্ত্র, সম।

স্বত্ব/সত্ত্ব/সত্তা
স্বত্ব (<স্ব + ত্ব)―স্ব অর্থ নিজে, এর সঙ্গে ত্ব যোগ করার ফলে বিশেষণ পদটিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করা হয়। তখন শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় নিজত্ব, নিজের অধিকার বা মালিকানা। কোনো কিছুতে কারও মালিকানা বোঝাতে স্বত্ব শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। যেমন―জমির স্বত্ব। সত্ত্ব (< সৎ + ত্ব)―শব্দটির তিনটি অর্থ রয়েছে; প্রথম অর্থ―বিদ্যমান (অন্তঃস্বত্ত্বা), দ্বিতীয় অর্থ―প্রকৃতির তিনটি গুণের শ্রেষ্ঠ গুণ (সাত্ত্বিক), তৃতীয় অর্থ―রস বা ফলের রস (আমসত্ত্ব)। সত্তা (< সৎ + তা)―শব্দটির অর্থ বিদ্যমানতা বা অস্তিত্ব। ‘সত্তা’ এবং ‘সত্ত্ব’ শব্দের অর্থগত পার্থক্য নেই। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্র ভিন্ন। সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি পবিত্র সরকার (২০০৪)। ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি বাংলা বানানবিধি’। বাংলা বানান সংস্কার : সমস্যা ও সম্ভাবনা, কলিকাতা। মনীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৩৮৫)। বাংলা বানান। কলকাতা মাহবুবুল হক (২০০৮)। বাংলা বানানের নিয়ম। ঢাকা মুহম্মদ এনামুল হক (২০০৯)। ব্যাকরণ মঞ্জরী। মাওলা ব্রাদার্স। ঢাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২০০৬)। বাংলা শব্দতত্ত্ব। রবীন্দ্র-রচনাবলী। ষোড়শ খ-। ঐতিহ্য। ঢাকা সুভাষ ভট্টাচার্য (২০০৩)। ভালো বাংলা শিখতে হলে। কলকাতা হায়াৎ মামুদ (২০০৮)। বাংলা লেখার নিয়মকানুন। ঢাকা হায়াৎ মামুদ (২০০৯)। বাঙালির বাংলা ভাষা ইদানীং। ঢাকা